দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে ১৬ বছর পর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের পর আবেগ ধরে রাখতে পারেননি স্পেনের প্রধান কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, এই প্রজন্মের ফুটবলাররা শুধু শিরোপাই জেতেনি, স্প্যানিশ ফুটবলের জন্য একটি অনন্য উত্তরাধিকারও তৈরি করেছে।
নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ের ১০৬ মিনিটে বদলি ফরোয়ার্ড ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলে জয় পায় স্পেন। এই জয়ের মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় বিশ্বকাপের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ফুটবলে টানা ৩৮ ম্যাচ অপরাজিত থেকে নতুন বিশ্বরেকর্ডও গড়ে লা রোহা।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম লা ১-কে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় দে লা ফুয়েন্তে বলেন, ‘আমি এই প্রজন্মের ফুটবলারদের নিয়ে ভীষণ গর্বিত। তারা একটি নির্দিষ্ট ফুটবল দর্শনকে বিশ্বাস করেছে, সেটির প্রতি বিশ্বস্ত থেকেছে এবং নিজেদের পরিশ্রমে সেটিকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। তারা শুধু অসাধারণ ফুটবলারই নয়, একটি প্রকৃত দল ও পরিবারেরও উদাহরণ। এমন প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের নেতৃত্ব দিতে পারা আমার জন্য অনেক বড় সম্মানের।’
বিশ্বজয়ের মুহূর্তে দীর্ঘ পথচলার কথাও স্মরণ করেন স্প্যানিশ কোচ। তিনি বলেন, ‘পেছনের দিনগুলোর দিকে তাকালে খুব আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ি। খেলোয়াড়রাও আমাকে বলছিল, "কোচ, আমরা সবকিছু জিতে নিয়েছি।" সত্যিই এই প্রজন্মের সঙ্গে আমরা সবকিছু জিতেছি। এটাই সবচেয়ে বড় তৃপ্তি।’
বর্তমান স্প্যানিশ দলকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আদর্শ বলেও মনে করেন দে লা ফুয়েন্তে।
তার ভাষায়, ‘এই ফুটবলাররা শুধু মাঠে নয়, খেলাধুলা ও সমাজের জন্যও এক অনন্য উদাহরণ। আমরা সবাই একসঙ্গে থাকলেই সবচেয়ে শক্তিশালী।’
ফাইনালের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করতে গিয়ে তিনি বলেন, ম্যাচের ফল আরও আগেই স্পেনের পক্ষে চলে আসা উচিত ছিল। তবে আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো ‘দিবু’ মার্তিনেজের দুর্দান্ত সব সেভ তাদের অনেক সুযোগ নষ্ট করেছে।
দে লা ফুয়েন্তে বলেন, ‘আমার মনে হয় ম্যাচটির নিষ্পত্তি আরও আগেই হয়ে যাওয়া উচিত ছিল। দিবুর অসাধারণ সেভগুলো আমাদের অনেক আগেই এগিয়ে যেতে দেয়নি। কিন্তু এটি বিশ্বকাপের ফাইনাল। এমন ম্যাচে প্রতিপক্ষ একজন কম নিয়েও খেললেও আপনাকে শেষ পর্যন্ত লড়াই করতে হবে।’
অতিরিক্ত সময়ের শেষ মুহূর্তের চাপের কথাও স্বীকার করেছেন স্প্যানিশ কোচ।
তিনি বলেন, ‘শেষ চার-পাঁচ মিনিট আমাদের প্রচণ্ড স্নায়ুচাপের মধ্যে কাটাতে হয়েছে। তবে এমন পরিস্থিতির জন্য আমরা প্রস্তুত ছিলাম। খেলোয়াড়রা অসাধারণ ধৈর্য ও মানসিক শক্তির পরিচয় দিয়েছে।’
শেষ পর্যন্ত ফেরান তোরেসের গোলে পাওয়া জয়কে পুরোপুরি প্রাপ্য বলেই মনে করেন বিশ্বজয়ী এই কোচ।
দে লা ফুয়েন্তের ভাষায়, ‘যা হওয়ার ছিল, ঠিক সেটাই হয়েছে। আজ স্পেনের জয়টাই সবচেয়ে ন্যায্য ফল ছিল।’
এমএস/